দুবৃত্তের গুলিতে নিহত হওয়া রাজুর কর্মস্থল আমেরিকান বেস্টউইং রেস্টুরেন্ট। ইনসেটে নিহত রাজু (উপরে) এবং আহত রাসেল (নিচে)।
তদন্ত করছে এনওয়াইপিডির সেভেনটি থার্ড প্রিসিংকট পুলিশ।
তদন্ত করছে এনওয়াইপিডির সেভেনটি থার্ড প্রিসিংকট পুলিশ।
রাজুর মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসা বন্ধু-স্বজনদের আসা অপেক্ষা।
সোনালী স্বপ্নকে মুঠোবন্দি করতে প্রায় তিন বছর পূর্বে একদিন পাড়ি জমিয়েছিলে আটলান্টিকের পাড়ের স্বপ্নের নিউইয়র্কে। সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে রেখে এসেছিলেন, কথা ছিলো কাগজপত্র হলে ফিরবেন। একদিন স্ত্রী সন্তানদেরকেও নিয়ে আসবেন তাঁর কাছে। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি মোঃ ইউসুফ রাজুর (৪৪)।
শনিবার দিবগত রাতে পৌনে ১২টার দিকে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্কের ৮৪২ রকওয়ে এভিনিউস্থ কর্মস্থল ফিজা-প্রায়েড চিকেনের এমেরিকান বেস্ট উইং রেস্টুরেন্টে দুবৃত্তের গুলিতে প্রাণ হারান রাজু। এসময় আহত হন তাঁর অপর সহকর্মী মোঃ রাসেল।
নিহত রাজুর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে। আহত রাসেলের বাড়ি কুমিল্লার মনহোরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাশারের বড়কাছি গ্রামে। তিনি ব্রুকডেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত রাজুর মরহদে বাংলাদেশে প্রেরণ করা হবে।সেখানে তাাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে। এক্ষেত্রে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি প্রয়োজনী সহযোগীতা করবে বলে জানা গেছে।
রেস্টুরেন্টের মালিক, সহকর্মী, রুমমেট ও পরিচিতজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে রেস্টুরেন্টে কাজ করতেছিলেন মোঃ ইউসুফ রাজু ও মোঃ রাসেল। এসময় রেস্টুরেন্টে অতর্কিতে গুলিবর্ষণ করে অজ্ঞাতনামা এক দুবৃত্ত। প্রথমে রাসেল পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। পরে রাজুকে গুলি করে চলে যায় সেই সন্ত্রাসী।
খবর পেয়ে এনওয়াইপিডির সেভেনটি থার্ড প্রিসিংকট পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী ব্রুকডেল হসপিটালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে রাসেল সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে রেস্টুরেন্টে গুলিবর্ষন এবং রাজুর নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই সেখানে ছুটেযান বন্ধুবান্ধব ও পরিচিজনরা। রোববার সকাল থেকেও পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও শোকার্ত মানুষের ভীড় ছিলো রেস্টুরেন্ট ঘিরে। বর্তমানে রেস্টুরেন্টটি বন্ধ রয়েছে।
সহকর্মীরা আরো জনান- রাজু ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। আইন অনুযায়ী তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং কাজ করার জন্য তাঁর সকল বৈধ কাগজপত্র ছিলো। তিনি ১২ বছর এবং আড়াই বছর বয়সী দুই কন্যা সন্তানের জনক। বাংলাদেশ থেকে আসার সময় তাঁর স্ত্রী সন্তান সম্ভাবা ছিলেন। তিনি যুক্তারাষ্ট্রে আসার পর ছোট মেয়ের জন্ম হয়।
রেস্টুরেন্টের মালিকদের একজন এবং নিহত রাজুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু একই গ্রামের আব্দুল জলিল শিপন দেশী খবরকে জানান- খবর পেয়ে সাথে সাথেই তিনি রেস্টুরেন্টে ছুটে আসেন এবং হাসপাতালে যান। পূর্ব থেকে কারো সাথে রাজু কিংবা অন্যকোন স্টাফের সাথে কোন বিরোধ ছিলোনা। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শ করে তদন্ত করেছে। সিটি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ এবং রাজুর ব্যাবহৃত ফোন নিয়ে গেছেন পুলিশ। রোববার রাত পর্যন্ত কাউকে আটকের খবর তিনি পাননি। আইনগত প্রকৃয়া শেষে রাজুর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোঃ রাসেল জানান, তিনি প্রায়েড চিকেনের ট্রে নিয়ে সবেমাত্র কিচেন থেকে সামনে আসেন এসময় একজন তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করলে গুলি তাঁর ডান পায়ে লাগে। যতটুকু চেহারা মনে আছে এতে মনে হয়েছে মিশ্রবর্ণের কালো যুবক। এরপর রাজুকে গুলি করে।
নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের ওজন পার্কে ব্যাচেলর বাসায় থাকতে নিহত মো ইউসুফ রাজু। বাসার সবার সাথে সদ্ভাব ছিলো তাঁর। রাজু নিজে রান্না করে খেতে পছন্দ করতেন জানিয়ে তাঁর রুমমেট মোঃ ফসয়াল দেশি খবরকে জানান- গভীর রাতে বাসায় ফিরে রান্না বসাতেন। আমি (ফয়সাল) অপেক্ষায় থাকতাম উনি বাসায় এলে রান্না করবো একসাথে খাবো। দাবা খেলতেও পছন্দ করতেন রাজু ভাই।
ফয়সাল আরো জানান- ছোট মেয়েটির জন্ম হয় রাজু যুক্তরাষ্ট্রে আসার ৫-৬ মাস পর। এখনো সরাসরি মেয়ের মুখ দেখেননি। অবসর সময় পেলেই তিনি স্ত্রী ও মেয়েদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলতেন। ২০২৭ সালে তাঁর মামলার চুড়ান্ত শুনানী হওয়ার কথা ছিলো। কাগজপত্র হলেও দেশে যাবেন এমন পরিকল্পনা ছিলো তাঁর। ঘাতকের বুলেটে প্রাণ কেঁড়ে নেয়ায় অবুঝ দুটি শিশু তাঁদের বাবাকে কিংবা রাজু স্ত্রী তাঁর স্বামীকে দেখবেনা কখনো।
দি গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ ইনক্ এর সভাপতি জাহিদ মিন্টু জানান- নিহত রাজু নোয়াখালী সোসাইটির সদস্য ছিলেননা। তারপরও মরদেহ বাংলাদেশ প্রেরণের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগীতার জন্য চেষ্টা করা হবে।
নোট-নিউজে ব্যাবহৃত ছবিসমূহ ফেসবুক থেকে নেয়া।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান (রুদ্র মাসুদ)
ঠিকানাঃ ৮৬-৩২ ১০২ এভিনিউ, ওজন পার্ক, দ্বিতীয় তলা, নিউ ইয়র্ক, এনওয়াই-১১৪১৬, ইউএসএ
© 2026 Deshi Khobor All Rights Reserved. Developed By Root Soft Bangladesh.