স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তব্য রাখছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
বক্তব্য রাখছেন কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শন।
বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে কনসাল জেনারেল ও রাষ্ট্রদূত।
গান পরিবেশন করছেন কৃষ্ণা তিথি।
নানা আয়োজনে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কনস্যুলেট মিলনায়তনে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানমালার শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এর পর পবিত্র কুরআন থেকে তেলওয়াত, গীতা পাঠ করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কসনাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। সমাপনি বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, বিএনপি নেতা গিয়াস আহম্মেদ, জসিম উদ্দিন ভূঁঞা, মুনা’র নির্বাহী পরিচালক সিপিএ আরমান চৌধুরীসহ মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ সোসাইটি, বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি, জালালাবাদ এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান বলেন, আমাদের সবার দায়িত্ব হবে মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জনানো। যারা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, যারা শাহাদাত বরণ করেছেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই বিজয় তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। ১৯৭১ সালের পরে দেশ গঠনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ছিলো। আমরা নানান চড়াই উৎরাই ফেরিয়েছি। কিন্তু; বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়নি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে একসময় দেশে গণতন্ত্র ছিলো, পরে গণতন্ত্র থাকেনি। সেটা একনায়কতন্ত্র হয়েছে, সামরিক শাসন হয়েছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে, আবার সেই গণতন্ত্র পনুরুদ্ধার হয়েছে। এবং সেই গণতন্ত্রও একসময় টিকেনি, একনায়কতন্ত্রে পরিণত হয়েছিলো। আমাদের অগ্রযাত্রা কিন্তু থেমে থাকেনি। আমাদের কৃষক-শ্রমিকদের লড়াই কিন্তু থেমে থাকেনি। তাঁদের কারণেই জনসংখ্যা তিনগুন বাড়লেও আজকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন।
স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আরো বলেন- প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের কারণে দেশের অর্থনীতি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে। দেশে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে বিস্ময়কর উত্থান ঘটেছে। নারীর ক্ষমতায়ন, যুব শক্তির উত্থান বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এতদসত্বেও শিক্ষা-স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে মান নিশ্চিত হয়নি।
বিজয়ের দিনে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণের পাশাপাশি জুলাই-আগষ্ট আন্দোলনে সকল শহীদ শ্রদ্ধা এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন। সুদানে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষী মিশনে কর্মরত অবস্থায় হামলায় নিহত ও আহতদের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা জানান।
কসনাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তীতে আমাদের সবচে বড় সাফল্য হচ্ছে অস্ত্র জমা দেয়ার বা পনুরুদ্ধারের বিষয়টি। যার ফলে দেশ সঠিক পথে এগিয়েছে। লিবিয়ায় কর্মরত থাকার সময় দেখেছি সেখানকার মানুষের হাতে থাকা অস্ত্র কিভাবে গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে রাখে। পাকিস্তান শাসন আমলে রাজনীতি, সোনাবাহিনী থেকে শুরুকরে সর্বত্র মুষ্টিমেয় কিছু পরিবারের করায়ত্ত ছিলো সবকিছু। উচু-নিচু ভেদাভেদ ছিলো। স্বাধীনতার পর আমরা ভেদাভেদ ভুলে এক হয়েছি। আমরা প্রত্যেকে একভাষায় কথা বলি।
তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন না হলে আজকে আমরা কনসাল জেনারেল কিংবা রাষ্ট্রদূত হতে পারতামনা আমরা। দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আমরা এই অবস্থানে। স্বাধীনতা সংগ্রামে সকল শহীদ, যাদের ত্যাগ রয়েছে বীরাঙ্গনা, সেক্টর কমান্ডার, মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সবার প্রতি শ্রদ্ধা।
কনসাল জেনারেল বলেন, বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার প্রবাসীদের ভোটদানের অধিকার প্রয়োগের কথা বলেছিলেন। শুধু মুখের কথা নয় সেটি বাস্তবায়নের পথে। আমেরিকা থেকে যেনো সর্বোচ্ছ সংখ্যক প্রবাসী ভোট দিতে পারে সেজন্য পোস্টাল ভোট বিডি এ্যাপ ডাউনলোড করার আহবান জানান তিনি।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন কৃষ্ণা তিথি, শিমুল খানসহ শিল্পিবৃন্দ। পরে অনুষ্ঠানে আগত সকল অতিথিবৃন্দ নৈশভোজে অংশ নেন।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান (রুদ্র মাসুদ)
ঠিকানাঃ ৮৬-৩২ ১০২ এভিনিউ, ওজন পার্ক, দ্বিতীয় তলা, নিউ ইয়র্ক, এনওয়াই-১১৪১৬, ইউএসএ
© 2026 Deshi Khobor All Rights Reserved. Developed By Root Soft Bangladesh.