যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী তথা বৃহত্তর সিলেটের অঞ্চলের প্রবাসীদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ ইনক্ এর নির্বাচন নিয়ে বিরাজ করছে জগাখিজুড়ি অবস্থা। নির্বাচনী প্রচারণা শেষমুহুর্তে হলেও ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগগুলোর কোন মিমাংসা হয়নি, কোন গ্রহণযোগ্য সদুত্তরও দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে ব্যার্থ হয়ে নির্বাচন পরিচালনা ব্যায় মেটাতে ধার-দেনা করতে হয়েছে। অবস্থা এমনই নির্বাচন কমিশন যেনো ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সমিতির কার্যালয়ে ভুয়া ভোটার, ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি এবং মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন চিত্র ফুটে উঠে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের উত্তরের মাঝে। তারওপর ২৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার আদালত থেকে কি সিদ্ধান্ত আসে সে দিকে তাকিয়ে আছে সবাই।
তবে; লিখিত বক্তব্যে দৃঢ়তার সাথে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আজিজুর রহমান আগামি ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন পরিচালনার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান। এসময় তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতাকারী একটি প্যানেলের পক্ষ থেকে সুষ্ঠ নির্বাচনে সহযোগীতার পরিবর্তে অহেতুক দরখাস্ত দিয়েছে বিঘœ সৃষ্টি করছে।
লিখিত বক্তব্যে ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, গঠনতন্ত্রে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে বলে উল্লেখ রয়েছে। ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশন প্রণয়ন কিংবা সংশোধন করেনি। গঠনতন্ত্র মোতাবেক ৩০ আগস্টের মধ্যে ভোটার তালিকা চুড়ান্ত কওে নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করার কথা। বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর করে নির্বাচন কমিশনকে ভোটার তালিকা হস্তান্তর করে। ভোটার তালিকায় ডাবল ভোট অথবা কোন ধরণের সংশোধনী আনা সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নয় বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন।
নির্বাচন কমিশন জানায়, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আলম অপু দুটি পৃথক প্যানেল থেকে স্ব স্ব পদে এবারও প্রার্থী হয়েছেন। একই ব্যাক্তি দুই ঠিকানায় ভোটার হওয়া, বিয়ানীবাজারের বাইরের মানুষ ভোটার হওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে আদালতে মামলা করেন ৫জন সদস্য। এই প্রেক্ষিতে সমঝোতার প্রয়াসে গণমান্য ব্যাক্তিদের সাথে গত ১০ অক্টোবর জরুরী আলোচনা সভা করে নির্বাচন কমিশন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজমল হোসেন কুনু, বদরুল হোসেন খান, আব্দুস শহীদ মাষ্টার ও সামছুল আবদীনকে দায়িত্ব দেয়া হয় উদ্ধুত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার। কিন্তু তাঁরাও কোন সমাধান দিতে ব্যার্থ হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে জানতে চাওয়া হয়- অভিযোগ পেলে নির্বাচন কমিশন ডাবল ভোটার, ভুয়া ভোটার কিংবা ভোটার তালিকা সংশোধন করতে পারবেনা গঠনতন্ত্রের কোন ধারায় এধরণের কোন বিধিনিষেধ আছে কিনা? জবাবে বিধিনিষেধ নাই বলে জানান নির্বাচন কমিশনার আমিনুল হোসেন।
তাহলে কেন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি? জানতে চাওয়া হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন- এখানে গঠনতন্ত্রে শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে। বিগতদিনে যারা বিয়ানীবাজার সমিতির দায়িত্বে ছিলো তাঁরা নিজেদের স্বার্থে এসব ফাঁকফোকর রেখে দিয়েছে।
গঠনতন্ত্র কেনো আগে সংশোধন করা হয়নি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামালকে ইঙ্গিত করে জানতে চাওয়া হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, এখন তো আর সংবিধান সংশোধনের সময় নয়।
নির্বাচনী ব্যায় প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনী খরছের জন্য সভাপতি আব্দুল মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আলম অপু চেক প্রদান করেছে। কিন্তু কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান দুখু সেই চেকগুলো আটকে দেয়। বাধ্য হয়ে ইভিএমের টাকাসহ অন্যান্য নির্বাচন পরিচালন ব্যায়ের জন্য ধারদেনা করতে হয়েছে। সবমিলিয়ে ২৬ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তাঁদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানান, দুটি প্যানেল নির্বাচনে ১৯ পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্ধিতা করছে। আছে স্বতন্ত্র প্রার্থীও। ২৬ অক্টোবর কুইন্স ও ব্রংকসের দুটি কেন্দ্রে ৮ হাজার ৫০৩জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান (রুদ্র মাসুদ)
ঠিকানাঃ ৮৬-৩২ ১০২ এভিনিউ, ওজন পার্ক, দ্বিতীয় তলা, নিউ ইয়র্ক, এনওয়াই-১১৪১৬, ইউএসএ
© 2026 Deshi Khobor All Rights Reserved. Developed By Root Soft Bangladesh.