১০ জুলাই ১৯৭৫ এর ভোর। বেগমগঞ্জের কেন্দুরবাগে রক্ষ্মীবাহিনী গুলি করে হত্যা করে জাসদ নেতা, গণবাহিনীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নজীরকে। সেদিন গ্রেফতার হয়েছিলেন তাঁর সহযোদ্ধাদের অনেকে। সেই হত্যাকান্ডের আজ ৫০ বছর। জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ শেষে কাঙ্খিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জাসদ রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়ায় শুধুমাত্র রাজনৈতিক বৈরীতার কারণে তখন অনেকের মতো রক্ষীবাহিনীর হাতে তাঁকেও জীবন দিতে হয়েছিলো।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বাদ আসর পরিবারের পক্ষ মরহুমের বাড়ি বেগমগঞ্জ উপজেলার মীরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের মীরআলীপুর গ্রামে মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি মরহুমের সকল সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ী সকলের কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া চেয়েছেন তাঁর পরিবার।
মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজীরের রাজনৈতিক ও যুদ্ধকালীন সহযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাঁর হত্যাকান্ডের সময় বেগমগঞ্জ থানায় ওসি হিসাবে কর্মরত আবু তাহের মোল্লা জাসদের নেতাকর্মীদের কাছে মূর্তিমান আতংক ছিলেন। তিনি জাসদের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে বেশী নির্যাতন করতেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতেন।
সেই আবু তাহের মোল্লা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় পাকিস্তান সরকারের অনুগত হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তখন কোম্পানীগঞ্জ থানা একইসাথে রাজাকার মিলিশিয়া ক্যাম্প হিসাবে ছিলো। ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পন করেন।
মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার নজীর মৃত্যুকালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং দেড় বছরের শিশু পুত্র রেখে যান। তাঁর মৃত্যুর পর জন্ম নেন ছোট ছেলে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি রুদ্র মাসুদ।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান (রুদ্র মাসুদ)
ঠিকানাঃ ৮৬-৩২ ১০২ এভিনিউ, ওজন পার্ক, দ্বিতীয় তলা, নিউ ইয়র্ক, এনওয়াই-১১৪১৬, ইউএসএ
© 2026 Deshi Khobor All Rights Reserved. Developed By Root Soft Bangladesh.