২০২০ সালের মধ্যমার্চ, বিশ্বের রাজধানীখ্যাত নিউইয়ের্ক তখন শীতের শেষ দিকে যখন প্রকৃতিতে রুক্ষতা হারাতে শুরু করেছিলো সবেমাত্র। দুনিয়াজুড়ে হৈচৈ এক মরণঘাতি ভাইরাস নিয়ে, আর তখনই আঘাত হানে অদৃশ্য ঘাতক করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯)। ঘড়িরকাটার সাথে ছুটেচলা সদাকর্মচঞ্চল নির্ঘুমের নগরীটি ধীরে ধীরে পরিণত হয় ভয় আর আতংকের নগরীতে। ঘন্টা মেপে যে শহরে মানুষ কাজের জন্য ছুটে সেই শহরের মানুষ দিনের পর দিন স্বেচ্ছাবন্দিত্ব বরণ করেছিলেন জীবন বাঁচানোর তাগিদে।
চারদিকে মৃত্যুর মিছিল। হাসপাতালের মর্গে ঠাঁই মেলেনা মরদেহের, ভ্রাম্যমান মর্গে দিনের পর দিন পড়ে থাকে কভিডের ছোবলে প্রাণহারানো মানুষের মরদেহ। কবরস্থানে সংকুলান না হওয়ায় গণকবরে সমাহিত করতে হয়েছিলো। এলাকা থেকে এলাকায় দাফিয়ে বেড়ানো এম্বুলেন্সগুলোর সাইরেন আরো বেশী আতংকিত করেছিলো নাগরিক জীবনে। গোটা দুনিয়ায় কাঁপন ধরানো কভিড-১৯ সবেচে বেশী প্রাণ কেড়ে নিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্রে। তখন কভিডের কেন্দ্রে ছিলো নিউইয়র্ক।
করোনাকালীন সেই ভয়ার্ত সময়কে নিয়ে নির্মিত হয়েছে হৃদয়স্পর্শী প্রামান্যচিত্র "Hope Never Dies" । নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে (ঠিকানা: 37-06 77th St, Jackson Heights, NY 11372) আগামী ২০ জুন, শুক্রবার, সন্ধ্যা ৭:৩০টায়, প্রামাণ্যচিত্রের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
৪২ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই প্রামাণ্যচিত্রে নিউইয়র্ককে কেন্দ্র করে কোভিড-১৯ এর সময়ের ভয়াবহতা, মানুষের লড়াই, বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও মনোবলের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ, গবেষণা, পরিকল্পনা ও স্ক্রিপ্ট লিখেছেন প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক ও নির্মাতা শামীম আল আমিন। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণে অর্থসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়েছে নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ আইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেটা ইনফো টেক (এমআইটি)।
প্রামান্যচিত্রে করোনাকালীণ সময়ের বেদনার্ত অভিজ্ঞতা, হারানো স্বজনের স্মৃতিচারণ এবং দায়িত্বপালনকালীন সময় নিয়ে কথা বলেছেন চিকিৎসক, চিকিৎসা সহকারী, স্বাস্থ্যকর্মকর্তা,স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট, মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব, সংস্কৃতিজন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রতিনিধি।
প্রমান্যচিত্রের উদ্বোধনী ও সমাপনী আবৃত্তি করেছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়। ধারাবর্ণনায় ছিলেন শামস উজ জোহা। টাইপোগ্রাফি ও পোস্টার ডিজাইনে ছিলেন মামুন হোসাইন। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেছেন স্বপ্নীল সজীব এবং সংগীতায়োজনে ছিলেন অভিজিৎ চক্রবর্তী জিতু। এই প্রামাণ্যচিত্রের দৃশ্যধারণ করেছেন শফিকুল ইসলাম সাবু, শামীম আল আমিন ও শেখ তানভীর আহমেদ। গ্রাফিক্স, সম্পাদনা ও সংগীতসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন জাহাঙ্গীর আলম। সিনে হাউজ মিডিয়া ছিল কারিগরি সহায়তায়।
প্রামাণ্যচিত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পরিস্থিতির কথা এলেও এটি মূলত নিউইয়র্ককে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে প্রিমিয়ারের পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে এটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
"Hope Never Dies" শুধু একটি প্রামাণ্যচিত্র নয়, বরং এটি এক ভয়াবহ সময়ের জীবন্ত দলিল এবং মানুষের অদম্য আশা ও বেঁচে থাকার প্রতীক।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান (রুদ্র মাসুদ)
ঠিকানাঃ ৮৬-৩২ ১০২ এভিনিউ, ওজন পার্ক, দ্বিতীয় তলা, নিউ ইয়র্ক, এনওয়াই-১১৪১৬, ইউএসএ
© 2026 Deshi Khobor All Rights Reserved. Developed By Root Soft Bangladesh.