× হোম দেশির খবর অনুষ্ঠান-কর্মসূচী-উদযাপন দেশের খবর দশদিক দুনিয়া দশকথা ভিডিও সব ছবি ভিডিও আর্কাইভ

মুস্তাফিজ সফির আগমনে নিউইয়র্কে বিয়ানীবাজারবাসীর স্বজন সমাবেশ

রুদ্র মাসুদ-

১৮ জুন ২০২৫ ১৯:৩৬ পিএম । আপডেট: ১৯ জুন ২০২৫ ১৯:৪২ পিএম

ছোট্ট পরিসরও কখনো কখনো আলোর দ্যুতি ছড়ায়। একই মাটির সন্তানকে বরণ করে নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রাবাসী বিয়ানীবাজারবাসীর নেতৃস্থানীয়দের অংশগ্রহণে এমন একটি ছোট্ট একটি সভা আলো ছড়িয়েছে আলোকিত মানুষ সাংবাদিক, সাহিত্যিক মুস্তাফিজ সফিকে ঘিরে। সহপাঠি, স্বজন, এলাকার জনপ্রতিনিধি, এই প্রবাসের কমিউনিটি এক্টিভিস্ট সবাই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন বক্তৃতায়।

দেশবরেণ্য সাংবাদিক মুস্তাফিজ সফির যুক্তরাষ্ট্র আগমন উপলক্ষ্যে সোমবার রাতে নিউইয়র্কের ওজনপার্কের আব্দুল্যাহ ব্যাংকুয়েট হলে অনুষ্ঠিত স্বজন সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়নুল ইসলাম। আমিনুল হোসেনের পরিচালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলওয়াত করেন নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মাওলানা রশিদ উদ্দিন। সভায় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

সভার শুরুতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে মুস্তাফিজ সফিকে ফুল দিয়ে বরণ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। তাঁর সম্মানে মানপত্র পাঠ করেন সারোয়ার হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী, বিয়ানীবাজার সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল, বিয়ানীবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র ফারুকুল হক, টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইউএসএ ইনক্ এর সভাপতি বদরুল হোসেন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি আজিমুর রহমান বোরহান। আরো বক্তব্য রাখেন ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, আব্দুল কুদ্দুস সিরু, সেবুল আহম্মেদ, লুৎফুর রহমান, ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় বক্তরা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি আর সাংবাদিকতায় এখন সৎ লোকের বড়ই অভাব। সৎ মানুষকে কাজ করতে গেলে হিমশিম খেতে হয়। দেশে সাংবাদিকতা বলতে কিছু নেই, সর্বত্র তেলবাজি আর ধান্ধাবাজী। মুস্তাফিজ সফি এর ব্যাতিক্রম। পরিবারের বেশীরভাগ সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও তিনি দেশে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশায় নিয়োাজিত থেকেছেন সততার সাথে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মুস্তাফিজ সফি জাতীয় পর্যায়ে বিয়ানীবাজার তথা সিলেটের মুখ উজ্জ্বল করছেন।

মুস্তাফিজ সফি তাঁর বক্তৃতায় বলেন-আজকের সমাবেশটা একটু অন্যরকম। বিয়ানীবাজারবাসী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও মনে হয় পুরো বাংলাদেশ এখানে আছে। যারা এখানে আছেন তাঁরা এই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। সবার ভালোবাসা আমাকে আপ্লুত করেছে। মসজিদে একজন এগিয়ে এসে বলেছেন তিনি আমাকে চেনেন, রাস্তায় হাটার সময় সহপাঠি বন্ধু এগিয়ে এসে কথা বলেছেন। এটি পরম পাওয়া। আজকের এই আয়োজনের জন্য আয়োজক ও উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ।

শিক্ষা জীবনে ছাত্ররাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও পেশাগত জীবনে রাজনীতি মুক্ত থাকতে চেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিয়ানীবাজারে অনেক গুণীজনের জন্ম হয়েছে যারা শিল্প-সাংস্কৃতিতে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রেখেছেন। আমি শুধু উনাদের দেখানো পথে হাঁটতে চেয়েছি। সেই পুর্বপুরুষরা সুযোগ পেয়েও দূণীতিতে জড়াননি, আমিও চেষ্টা করেছি সৎভাবে সাংবাদিকতায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে।

মুস্তাফিজ সফি বলেন- দেশ একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আমাদের দেশে যারাই ক্ষমতায় আসে তাঁরা একটা বড় ডাস্টার নিয়ে আসেন। তাঁরা অতীতের সকলকিছু মুছে দিতে চান। আমি স্বপ্ন দেখি দেশ এগিয়ে যাবে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে। আমরা কাউকে অস্বীকার করবোনা, ধর্মের ভিত্তিতে নয় জাতীয়তার ভিত্তিতে আগামির বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সেই স্বপ্ন দেখি।

আলোচনাপর্ব শেষে ফটোসেশন ও নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন সবাই।

প্রসঙ্গতঃ ৩৪ তম নিউইয়র্ক আর্ন্তজাতিক বইমেলায় অতিথি হিসাবে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসেন সাংবাদিক, সাহিত্যিক মুস্তাফিজ সফি।


Deshi Khobor

সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান (রুদ্র মাসুদ)

ঠিকানাঃ ৮৬-৩২ ১০২ এভিনিউ, ওজন পার্ক, দ্বিতীয় তলা, নিউ ইয়র্ক, এনওয়াই-১১৪১৬, ইউএসএ

© 2026 Deshi Khobor All Rights Reserved. Developed By Root Soft Bangladesh.