× হোম দেশির খবর অনুষ্ঠান-কর্মসূচী-উদযাপন দেশের খবর দশদিক দুনিয়া দশকথা ভিডিও সব ছবি ভিডিও আর্কাইভ

বামনী বেড়ীর যুদ্ধ : মহান মুক্তিযুদ্ধের এক রক্তাক্ত দলিল

নুর উদ্দিন মুরাদ-

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৯ এএম । আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৯ এএম

বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা বাজারে শহীদ আহম্মেদ মজুমদার, ইসমাঈল এবং আক্তারুজ্জামান লাতুর কবর। ছবি- দেশি খবর।

মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথায় যতোগুলো বিষয় যুক্ত রয়েছে তাঁর সবটুকুই যেনো গেঁথে আছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বামনী বেড়ীর যুদ্ধে। ৭১’র ৪ সেপ্টেম্বও সকাল সাড়ে ১০টায় সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত দলিল। একটি সিভিল অপারেশন শেষে ফেরার পথে রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হামলার জবাব দিতে গিয়ে সংঘটিত হয়েছিলো সেই যুদ্ধ।

এদিন রণাঙ্গনে ১৫ নম্বর স্লুইসের বেড়ির ওপর সেই যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চৌমুহনী কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী সালেহ আহম্মেদ মজুমদার, কিশোর আমান উল্যাহ ফারুক, টগবগে তরুন মোস্তফা কামাল ভুলু, আবদুর রব বাবু, আক্তারুজ্জামান লাতু  ও ইসমাঈল। 

শুধু মুক্তিযোদ্ধারা নন সেদিন মুক্তিপাগল সাধারণ মানুষ যারা মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে স্বতঃস্ফূর্ত সহায়তা দিয়েছিলেন। তখন একজন পথচারী ও দুজন অজ্ঞাত মানুষও শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আবু নাছের সহ অনেকে। শহীদদের মধ্যে ছালেহ আহম্মদ মজুমদার, ইসমাঈল এবং আক্তারুজ্জামান লাতুকে দাফন করা হয় বেড়ীবাঁধ এলাকায়। এ দাফনকে কেন্দ্র করে সেখানে মুক্তিযোদ্ধা  বাজার নামে একটি বাজার গড়ে ওঠে।  

বেগমগঞ্জের কাজীরহাট পাবলিক স্কুলের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ছিলেন শহীদ আমান উল্যাহ ফারুক। তিনি স্কুল থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। রণাঙ্গন থেকে তিনি চিঠি লিখে পরবর্তীতে বড়বোনকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। শহীদ সালেহ আহম্মেদ মজুমদারের নামে স্বাধীনতা পরবর্তীকালে চৌমুহনী সরকারি এসএ (সালেহ আহম্মেদ) কলেজে নামকরণ করা হয়।

এদিনের স্মৃতিচারণ করে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নাছের বলেন, বেড়ী বাঁধের সেই রনাঙ্গন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালের ইতিহাসে আরেক রক্তাক্ত প্রান্তর। ১৯৭১ সালের এদিনে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাবাজার (তখনকার পাকিস্তান বাজার) থেকে ১৫ নম্বর স্লুইস বেড়ীবাঁধ হয়ে ফিরছিলাম। ফিরতে বিলম্ব হয়েছিলো। আমাদের অবস্থান সম্পর্কে বসুরহাট ও চাপরাশিরহাট রাজাকার ক্যাম্পে তথ্য দেন তৃণমুল রাজাকররা। 

পরে খবর পেয়ে রাজাকারসহ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সদস্যরা বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা বাজার এলাকায় ওঁৎপেতে থাকে। আমরা সে স্থানে পৌঁছামাত্রই তারা অতর্কিত হামলা চালায়। তখন তীব্র প্রতিরোধের চেষ্টা করি আমরা। আমাদের ছয়জন মুক্তিযোদ্ধা ও তিনজন মুক্তিকামী মানুষসহ নয়জন সেদিন শহীদ হন। 

তিনি বলেন, সেদিন আমাদের দু পক্ষের যুদ্ধের ভিতর হঠাৎ   আমার শরীরে গুলি লাগে। পরে রাতে আমার সহযোদ্ধারা নৌকায় করে চাপরাশি হাট হয়ে সদরের কাছাকাছি নিয়ে যান। সেখানে চৌমুহনী থেকে আসা এক ডাক্তার আমার চিকিৎসা করেন। এদিনের কথা মনে উঠলে শরীর শিহরে ওঠে। আমাদের বীর যোদ্ধাদের কথা মনে পড়লে চোখে পানি চলে আসে।


Deshi Khobor

সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান (রুদ্র মাসুদ)

ঠিকানাঃ ৮৬-৩২ ১০২ এভিনিউ, ওজন পার্ক, দ্বিতীয় তলা, নিউ ইয়র্ক, এনওয়াই-১১৪১৬, ইউএসএ

© 2026 Deshi Khobor All Rights Reserved. Developed By Root Soft Bangladesh.